মাছ বিক্রেতা থেকে লাখ লাখ ফোন পুড়িয়ে দেওয়া! কীভাবে তৈরি হলো স্যামসাং-এর ৯৬ লক্ষ কোটির সাম্রাজ্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মাছ বিক্রেতার বিশ্বজয় এবং ট্রিলিয়ন ডলারের স্যামসাং সাম্রাজ্য
আজ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি স্যামসাং। মোবাইল ফোন, ফ্রিজ কিংবা টেলিভিশন বললেই যে ব্র্যান্ডের নাম সবার আগে মাথায় আসে, তার শুরুটা কিন্তু কোনো প্রযুক্তি গবেষণাগার থেকে হয়নি। ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় লি ব্যুং-চুল নামের এক সাধারণ ব্যবসায়ী একটি মুদি দোকান এবং শুঁটকি মাছ রপ্তানির মাধ্যমে এই কো ম্পা নির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সাধারণ সেই ব্যবসা থেকে আজ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ
মুদি ও টেক্সটাইল ব্যবসা সফল হলেও লি ব্যুং-চুল বুঝতে পেরেছিলেন যে ভবিষ্যৎ কেবল প্রযুক্তির। সেই ভাবনা থেকে ১৯৬৯ সালে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭০ সালে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট টেলিভিশন তৈরির পর ১৯৮৮ সালে বাজারে আসে তাদের প্রথম মোবাইল ফোন ‘SGH-100’। তবে শুরুর দিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে ফোনের মান নিয়ে তীব্র অভিযোগ আসে। ব্র্যান্ডের সুনাম ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠাতা তখন গুদামে থাকা প্রায় ১ লক্ষ মোবাইল ফোনে আগুন ধরিয়ে ধ্বংস করে দেন এবং প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন ফোন তৈরি করতে। গুণমানের প্রতি এই আপসহীন মনোভাবই পরবর্তীতে স্যামসাংকে বিশ্বমঞ্চে বিশ্বস্ততার প্রতীক করে তোলে।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও বহুমুখী ব্যবসা
লি ব্যুং-চুলের পর তার ছেলে লি কুন-হি কো ম্পা নির হাল ধরেন এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত করেন। বর্তমানে স্যামসাং শুধু স্মার্টফোন বা家電 সামগ্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা গাড়ি, যুদ্ধবিমান তৈরি থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট এবং হোটেল ব্যবসাতেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৭ শতাংশই আসে এককভাবে স্যামসাং থেকে। ফলে এই কো ম্পা নির সামান্য ব্যবসায়িক ক্ষতিও পুরো দেশের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
এক ঝলকে
- ১৯৩৮ সালে লি ব্যুং-চুল একটি সাধারণ মুদি দোকান ও মাছ রপ্তানির ব্যবসা দিয়ে স্যামসাংয়ের সূচনা করেন।
- ১৯৮৮ সালে বাজারে আসা স্যামসাংয়ের প্রথম মোবাইল ফোনের মান নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ তোলায় প্রায় ১ লক্ষ হ্যান্ডসেট পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।
- বর্তমানে এই কো ম্পা নির মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এটি স্মার্টফোনের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান ও গাড়ি নির্মাণ শিল্পের সাথেও জড়িত।
- দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জিডিপিতে এককভাবে স্যামসাং প্রায় ১৭ শতাংশ অবদান রাখে।
