মাঝরাতে দমদম স্টেশনে চলল বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল শতাধিক বেআইনি দোকান! – এবেলা

মাঝরাতে দমদম স্টেশনে চলল বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল শতাধিক বেআইনি দোকান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শনিবার মাঝরাতে এক বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে দমদম স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে এক বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের বেআইনি দখলদারি মুক্ত করতে এবং রেলযাত্রীদের যাতায়াতের পথ সুগম করতে শেষমেশ কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আগে থেকে নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও হকাররা জায়গা খালি না করায়, শনিবার রাতের ব্যস্ততা কমতেই আরপিএফ, রেল পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনী স্টেশন চত্বরে এসে পৌঁছয়। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভিযান শুরুর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে হকারদের নিজেদের মালামাল ও গুমটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য শেষবারের মতো কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হকাররা নিজে থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্টেশনে নামানো হয় বুলডোজার। একে একে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন সংলগ্ন চত্বরে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ দোকান ও ডালা। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, স্টেশনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সাধারণ যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ চলাচলের স্বার্থেই এই উচ্ছেদ জরুরি ছিল।

তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ

রেলের এই আকস্মিক ও কঠোর অভিযানের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন বামপন্থী হকার সংগঠনের নেতৃত্ব। সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তড়িৎ তোপদার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। হকারদের উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না বলে রেল ও রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন বাম নেতৃত্ব। তবে এই রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রেলের জমিতে কোনওরকম অবৈধ দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না এবং আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আতঙ্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দমদম স্টেশন এলাকার হকারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র আতঙ্ক কাজ করছিল। গত শুক্রবারই উচ্ছেদের নোটিসের জেরে এক মহিলা হকার আত্মহত্যার চেষ্টায় চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, যদিও সহযাত্রীদের তৎপরতায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেলের এই বড়সড় পদক্ষেপ স্থানীয় হকারদের রুজি-রুজির ওপর গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই অভিযানের ফলে প্রতিদিন যাতায়াত করা লক্ষাধিক সাধারণ রেলযাত্রী দীর্ঘদিনের ঘিঞ্জি পরিবেশ ও যানজট থেকে মুক্তি পাবেন এবং স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *