মাঝসমুদ্রে মৃত্যুমিছিল! করোনার মতোই কি দাপট দেখাবে হান্টাভাইরাস? মুখ খুলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আর্জেন্টিনা থেকে রওনা দেওয়া ডাচ ক্রুজ শিপ ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে তিন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জাহাজের একাধিক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জাহাজটিতে মোট আটটি সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে, যার মধ্যে পাঁচজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য তিনজনের শরীরেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে প্রবল সন্দেহ রয়েছে চিকিৎসকদের।
করোনার মতো অতিমারীর ঝুঁকি কতটা
এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখে সাধারণ মানুষের মনে কোভিড-১৯ এর মতো ভয়াবহ অতিমারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশ্বাস দিয়েছে যে এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয় এবং এটি করোনার মতো অতিমারী ছড়াতে সক্ষম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস এবং ছয় বছর আগের কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এটি মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায়। সংক্রামিত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে। তবে এটি কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে না।
সতর্কতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি এবং সিঙ্গাপুরসহ মোট ১২টি দেশকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। আক্রান্ত জাহাজটিতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে, যারা কানারি আইল্যান্ড পৌঁছানো পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাবেন।
হান্টাভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণগুলি প্রাথমিকভাবে সাধারণ ফ্লু-এর মতো হলেও, দ্রুত তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে। জ্বর, গায়ে ব্যথা ও দুর্বলতার পর ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে ওই জাহাজের বাকি যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। যদিও এই ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা (Inkubation Period) ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই এখনই পুরোপুরি বিপদমুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে প্রত্যেক যাত্রীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি পরীক্ষা করে দেখছেন।
