মাত্র ৪৮ ঘণ্টার তীব্র ধাক্কায় বিপর্যস্ত মধ্যবিত্ত, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ মানুষের ঘরে হাহাকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় কোপ মেরে গত ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ড হারে বেড়েছে সোনা-রুপো, দুধ, সিএনজি এবং পেট্রল-ডিজেলের দাম। পরপর জরুরি পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধির এই চৌমুখী আক্রমণে আমজনতার মাসিক বাজেট পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। হঠাৎ করে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।
দুধ থেকে জ্বালানি, সবকিছুরই দাম আকাশচুম্বী
মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা শুরু হয় সোনা ও রুপোর ওপর সরকারের আমদানি শুল্ক (ইমপোর্ট ডিউটি) বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, যার জেরে বাজারে সোনা প্রায় ১১ হাজার টাকা এবং রুপো ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত মহার্ঘ হয়ে উঠেছে। এই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই মাদার ডেয়ারি এবং আমূলের মতো শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি প্যাকেটজাত দুধের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ঠিক পরপরই জ্বালানি তেলের কো ম্পা নিগুলো পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে একধাক্কায় ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় বড় শহরগুলিতে জ্বালানির দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিতে সিএনজির দামও প্রতি কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজেট বিপর্যয়ের কারণ ও দূরপ্রসারী প্রভাব
মূলত সরকারি নীতিগত পরিবর্তন ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ধাতু বাজারের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনের খরচের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে তেল ও দুগ্ধ বিপণন সংস্থাগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে পণ্য পরিবহণ খরচ একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যার জেরে আগামী দিনগুলিতে শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারি পণ্যের দাম আরও বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি এবং খাদ্যের মতো অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে টান পড়বে এবং সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থায় এক ধরনের মন্দা দেখা দিতে পারে।
