মায়ের হাতের প্রিয় মাছের ঝোল আর খাওয়া হলো না, নেশার ঘোরে জন্মদাত্রীকেই জবাই করল পাষণ্ড ছেলে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেরালার কান্নুর জেলার কেলাকামে মাদকাসক্তির এক বীভৎস রূপ দেখল দেশবাসী। নিজের প্রিয় সন্তানের জন্য পছন্দের আয়ালা মাছ রান্না করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন গীতাম্মা নামের এক নারী। নেশায় বুঁদ ছেলে ক্রিস্টি কেবল তার মাকে হত্যাই করেনি, বরং খুনের পর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সিগারেট টানতে টানতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড মাদকাসক্তির ভয়াবহ সামাজিক পরিণতির এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ও খুনি ছেলের নির্লিপ্ততা
তদন্তে জানা গেছে, মাদকাসক্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে ক্রিস্টি তার মাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার সময় ঘরে থাকা ৯০ বছর বয়সী দাদিকে আটকে রেখে রান্নাঘরে থাকা ছুরি দিয়ে গীতাম্মার গলা কেটে দেয় সে। হত্যার পর সে নিজেই তার বোনকে ফোন করে ঘটনাটি জানায়। এখানেই শেষ নয়, এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশী নিপুনের স্কুটারে চেপে থানায় যাওয়ার পথে দোকান থেকে সিগারেট কিনে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। এমনকি তার পরবর্তী লক্ষ্য ছিল বাবাকে হত্যা করা, যা সে অবলীলায় স্বীকার করেছে।
সফল নারী উদ্যোক্তার করুণ পরিণতি
নিহত গীতাম্মা এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল একজন নারী ছিলেন। কেলাকামে তার একটি বিউটি পার্লার ও দর্জির দোকান ছিল। হাসিখুশি স্বভাবের জন্য তাকে সবাই ‘মোনা লিসা’ বলে ডাকতেন। মাদকাসক্ত ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করছিলেন তিনি। এমনকি তাকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু মায়ের সেই ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল। ছেলের হাতে স্ত্রীর এমন মৃত্যুসংবাদ শুনে গীতাম্মার স্বামী থাঙ্কাচান বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এক ঝলকে
- মাদকাসক্তির প্রতিবাদ করায় কেরালায় নিজের মাকে গলা কেটে হত্যা করল ছেলে ক্রিস্টি।
- খুনের পর কোনো অনুশোচনা ছাড়াই সিগারেট টানতে টানতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে অভিযুক্ত।
- নিহত গীতাম্মা এলাকায় ‘মোনা লিসা’ নামে পরিচিত একজন সফল উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী ছিলেন।
- মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
