মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথের পর প্রথম নন্দীগ্রাম সফর, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু? – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথের পর প্রথম নন্দীগ্রাম সফর, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের পর এই প্রথম নিজের চেনা জমি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাতে নন্দীগ্রাম বিধানসভার রেয়াপাড়া দলীয় কার্যালয়ে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান দলীয় নেতা-কর্মীরা। এরপরই জেলা স্তরের শীর্ষ আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি।

উন্নয়নের রূপরেখা ও সাংগঠনিক রোডম্যাপ

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকটি মূলত দুটি স্তরে বিন্যস্ত ছিল। প্রথম পর্বে গুরুত্ব পায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের সক্রিয়তা নিশ্চিত করতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং জেলাশাসক এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জেলার থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে দ্রুত গতিশীল করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

উপনির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক কৌশল

বৈঠকের দ্বিতীয় পর্বে প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়েও দীর্ঘ মন্থন চলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী এবং জেলা থেকে নির্বাচিত বিজেপির একাধিক বিধায়ক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে এই বৈঠকে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তাঁর ছেড়ে দেওয়া বা নতুন কোনো আসন বিন্যাসের সমীকরণ মাথায় রেখেই এই আগাম প্রস্তুতি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাত ১০টা ২২ মিনিট নাগাদ বৈঠক শেষ করে শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফরেই প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক স্তরে এই জোড়া বৈঠক প্রমাণ করে যে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক গড় রক্ষা এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার রাতে প্রথমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া দলীয় কার্যালয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • প্রায় দুই ঘণ্টার এই ম্যারাথন বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসক উপস্থিত ছিলেন।
  • প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী ও দলীয় বিধায়কদের নিয়ে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
  • বৈঠক শেষে রাত ১০টা ২২ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরের কাঁথির বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *