মেধা কি তবে নিলামে? নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে মোদী সরকারকে ‘বিষকাল’ তোপ রাহুল গান্ধীর – এবেলা

মেধা কি তবে নিলামে? নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে মোদী সরকারকে ‘বিষকাল’ তোপ রাহুল গান্ধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নীট’ (NEET) ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে দাবি করে তিনি বিজেপি পরিচালিত ব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। রাহুল গান্ধীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর কথিত ‘অমৃতকাল’ আজ দেশের যুবসমাজের কাছে ‘বিষকালে’ পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের অবমাননা

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, নীট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত অপরাধ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, অসংখ্য শিক্ষার্থী রাত জেগে পড়াশোনা করে এবং তাঁদের অভিভাবকরা ঋণ নিয়ে বা গয়না বিক্রি করে পড়ার খরচ জোগান। কিন্তু বিনিময়ে তাঁরা পাচ্ছেন কেবল সরকারি গাফিলতি এবং সংগঠিত দুর্নীতি। প্রশ্ন ফাঁসের ফলে সৎ ও পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীরা মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তদন্ত ও পরিকাঠামোর অস্বচ্ছতা

পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘এনটিএ’ (NTA)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস দাবি করেছে যে, সরকার দুর্নীতিবাজদের আড়াল করছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির বদলে উল্টো পুরস্কৃত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরীক্ষা বাতিলের এই ধারাবাহিকতা শিক্ষার্থীদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি চক্রান্ত হতে পারে।

প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাত

এই ঘটনার ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে ২২ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এনটিএ-এর স্বচ্ছতা এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলগুলো সরকারকে আরও কোণঠাসা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *