মোদীর উপদেষ্টাই কি নতুন অর্থমন্ত্রী? নন্দীগ্রামের BJP প্রার্থী নিয়ে জল্পনা – এবেলা

মোদীর উপদেষ্টাই কি নতুন অর্থমন্ত্রী? নন্দীগ্রামের BJP প্রার্থী নিয়ে জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করার পর এবার মন্ত্রিসভা গঠন ও শূন্য আসন পূরণের কৌশলগত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিজেপি শিবির। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই হাইপ্রোফাইল আসনে উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (EAC-PM) সদস্য তথা খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালই নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির প্রথম পছন্দ। শুধু তাই নয়, রাজ্য বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত করে তাঁকে সরাসরি বাংলার নতুন অর্থমন্ত্রী করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

অভিজ্ঞতার হাত ধরে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা

শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ সাহার নাম আলোচনায় থাকলেও দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন সঞ্জীব সান্যাল। প্রকৃতপক্ষে, আমলা বা বিশেষজ্ঞদের সরাসরি রাজনীতিতে এনে বড় দায়িত্ব দেওয়া বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চেনা কৌশল। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কিংবা পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এর অন্যতম উদাহরণ। এই একই মডেলে এবার বাংলাতেও এক অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে নীতি নির্ধারণের মূল স্রোতে নিয়ে আসার ভাবনা চলছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও বাঙালি পোশাকে সঞ্জীব সান্যালের উপস্থিতি এবং তাঁর স্ত্রীর জনসম্পৃক্ততা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান রাজ্য মন্ত্রিসভায় অর্থনীতির গভীর জ্ঞানসম্পন্ন বিধায়কের অভাব মেটাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই রাজনৈতিক রদবদলের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক সংকট। ভারতের জিডিপিতে (GDP) ১৯৬০-৬১ সালে যেখানে বাংলার অবদান ছিল ১০.৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬ শতাংশে। দেশের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি থেকে বাংলা এখন ২৪তম স্থানে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় গড়ের তুলনায় মাথাপিছু আয় কমেছে এবং রাজ্যের সামগ্রিক পুঞ্জীভূত ঋণ ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এই চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও শিল্পহীনতা থেকে রাজ্যকে টেনে তোলাই নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সঞ্জীব সান্যাল যদি শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়ে অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন, তবে তা রাজ্যের শিল্পায়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ঋণভার লাঘবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই বাঙালি অর্থনীতিবিদকে সামনে রেখে নতুন সরকার রাজ্যের ভঙ্গুর আর্থিক পরিকাঠামো এবং ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *