যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই গলছে বরফ! কলম্বো ও ব্যাংককে ভারত-পাক ট্র্যাক-টু বৈঠক – এবেলা

যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই গলছে বরফ! কলম্বো ও ব্যাংককে ভারত-পাক ট্র্যাক-টু বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিন্ধু নদের জলবণ্টন নিয়ে পাকিস্তানের যুদ্ধ-হুমকি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রসংঘে ধারাবাহিক বাগযুদ্ধ— প্রকাশ্যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এখন চরম সংঘাতের পরিবেশ। কিন্তু এই উত্তপ্ত আবহেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার বন্ধ দরজা খোলার ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি কলম্বো এবং ব্যাংককে দুই দেশের প্রাক্তন কূটনীতিক, সাবেক সেনাকর্তা এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বা ‘ট্র্যাক-টু’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারিভাবে নয়াদিল্লি বা ইসলামাবাদ কেউই এই বৈঠকের কথা স্বীকার না করলেও জানা গিয়েছে, সীমান্ত বিরোধ ও জঙ্গি তৎপরতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি এড়িয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পথ খুঁজতেই এই গোপন আলোচনা।

আরএসএস-এর প্রস্তাব ও জনযোগের চেষ্টা

২০১৮ সালে মুজাফরাবাদে জঙ্গি হামলার জেরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট এবং গত বছরের স্বল্পকালীন যুদ্ধ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু এর মাঝেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) তরফে আলোচনার পক্ষে জোরালো সমর্থন একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক। সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত এবং উপপ্রধান দত্তাত্রেয় হোসাবালে সম্প্রতি দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে মেলবন্ধনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁদের মতে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং জনপ্রশাসনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাই কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফেরাতে জনপ্রশাসনের মাধ্যমে সে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা কৌশলগত দিক থেকে জরুরি।

নেপথ্যে মার্কিন চাপ ও চিনা সমীকরণ

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও পারস্পরিক আস্থাহীনতার মাঝে ভারত ও পাকিস্তানের এই আকস্মিক ট্র্যাক-টু কূটনীতির পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন চাপ কাজ করছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। এশিয়া উপমহাদেশে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে আমেরিকাই চাইছে ভারত ও পাকিস্তান কাছাকাছি আসুক। পাকিস্তানকে চিনের প্রভাব মুক্ত করে মার্কিন বলয়ে রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইস্যুভিত্তিক আলোচনার বিষয়ে মার্কিন বিদেশ সচিবের দাবি নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে উড়িয়ে দিলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও মার্কিন চাপের কারণেই যে দুই দেশ আলোচনার টেবিলে ফিরেছে, তা এই জোড়া বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *