রক্ষক যখন ভক্ষক! ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুন পুলিশ কনস্টেবলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে রক্ষকই অবতীর্ণ হলো ভক্ষকের ভূমিকায়। ডায়াল ১১২-তে কর্মরত অভিষেক যাদব নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ১০ বছরের এক বালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশের জেরায় অভিযুক্তের হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি শুনে শিউরে উঠছেন খোদ তদন্তকারী আধিকারিকরাও।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
- পরিকল্পিত অপহরণ: গত ২৮শে জুলাই রাত ১০টা নাগাদ হত্যার উদ্দেশ্যেই একটি ছুরি নিয়ে নিজের কোয়ার্টার থেকে বের হয় ওই কনস্টেবল। এরপর গোরখপুর জেলা হাসপাতাল চত্বর থেকে ফুসলিয়ে ওই ১০ বছরের বালিকাকে সে অপহরণ করে।
- শ্মশানে পাশবিক অত্যাচার: শিশুটিকে সোজা স্থানীয় একটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচার চালায় সে। জেরায় অভিযুক্ত জানায়, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করছিল ও চিৎকার করছিল ওই অবুঝ শিশুটি।
- নৃশংস হত্যা ও প্রমাণ লোপাট: শিশুটির চিৎকার শুনে কেউ চলে আসতে পারে, এই ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অভিষেক। এরপর নিহতের পরিচয় চিরতরে মুছে ফেলতে ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির মুখ ও শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয় সে। শেষে পাজামার দড়ি দিয়ে হাত দুটো পিছন দিকে শক্ত করে বেঁধে চিউতাহা সেতু থেকে মৃতদেহটি নদীতে ছুড়ে ফেলে।
বিকৃত মানসিকতা ও তদন্তের অগ্রগতি
জেরায় ওই পাষণ্ড কনস্টেবল একটি ভয়ংকর তথ্য স্বীকার করেছে। সে জানায়, নারী ও মেয়েদের কষ্ট পেতে দেখলে সে বিকৃত আনন্দ উপভোগ করে। স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আলাদা হয়ে গত এক বছর ধরে সে একাই পুলিশ কোয়ার্টারে থাকত।
গত ৪ঠা আগস্ট অভিযুক্তকে ১০ ঘণ্টার পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। পুলিশের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল, শ্মশান ও সেতুতে গিয়ে পুরো ঘটনার অপরাধ পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করে। অভিযুক্তের বয়ানের ভিত্তিতে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট, মোবাইল লোকেশন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য কাজে লাগিয়ে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে এই পিশাচের কঠোরতম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
