রাজ্যে অবশেষে চালু হচ্ছে সপ্তম পে কমিশন, সরকারি কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে অবশেষে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে স্বভাবতই খুশি রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজ্য সরকারি কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যেই এই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে। মোদী সরকার ২০১৬ সালেই কেন্দ্রীয় স্তরে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করেছিল। এবার রাজ্যেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কর্মীরা বড়সড় আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও কারণ
বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে এই পে কমিশন গঠনের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করল। সরকারি কর্মীদের একাংশের মতে, এই সপ্তম পে কমিশন গঠন ও তা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে কর্মীদের মূল বেতন বা বেসিক পে একলাফে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতেই এই বেতন কাঠামো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ধোঁয়াশা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সপ্তম পে কমিশন গঠনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। তবে এই খুশির খবরের মধ্যেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্দোলনরত কর্মীরা আশা করেছিলেন যে বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকার আজ কোনও বড় ঘোষণা করবে। তবে এখনই তারা আশাহত হতে রাজি নন। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করবে, এই ভরসা এখনও রাখছেন মঞ্চের প্রতিনিধিরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং কাজের গতি বাড়বে, অন্যদিকে রাজ্য কোষাগারের ওপর আর্থিক চাপ কতটা বাড়বে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।
