রাজ্যে কৃষকবন্ধুর জায়গায় পিএম কিষাণ চালু হওয়ার জোর জল্পনা! – এবেলা

রাজ্যে কৃষকবন্ধুর জায়গায় পিএম কিষাণ চালু হওয়ার জোর জল্পনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ক্ষেত্রে এক বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্য সরকারের নিজস্ব অত্যন্ত জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘কৃষকবন্ধু’র পরিবর্তে এবার রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ বা পিএম কিষাণ চালু হতে পারে বলে प्रशासनिक ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কৃষকদের সরাসরি কেন্দ্রীয় অনুদানের আওতায় নিয়ে আসতেই এই বড়সড় রদবদলের ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে বলে নবান্ন ও সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানা গেছে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের কৃষকবন্ধু এবং কেন্দ্রের পিএম কিষাণ প্রকল্প নিয়ে দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে এক ধরনের দ্বৈরথ চলছিল। এই political ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের জেরে অনেক সময়ই রাজ্যের যোগ্য কৃষকরা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ উঠছিল। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতা এবং শীর্ষ স্তরের নীতিনির্ধারকদের নানামুখী আলোচনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে রাজ্যের কৃষকরা এবার সরাসরি কেন্দ্রের এই কল্যাণমুখী প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে চলেছেন।

পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারণ ও অর্থনৈতিক সমন্বয়

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হলো দেশজুড়ে একটি অভিন্ন নীতি বজায় রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করা। বর্তমানে রাজ্য সরকারের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কৃষকদের বছরে দুটি কিস্তিতে জমির পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা (১ একর বা তার বেশি জমির জন্য) এবং সর্বনিম্ন ৪,০০০ টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পে যোগ্য কৃষকরা প্রতি বছর তিনটি সমান কিস্তিতে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডিবিটি-র মাধ্যমে) পেয়ে থাকেন। দুটি আলাদা প্রকল্পের কারণে ডেটাবেস তৈরি, স্ক্রুটিনি এবং আইনি জটিলতা দিন দিন বাড়ছিল, যা একক প্রকল্প চালুর মাধ্যমে অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষকসমাজে সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ নিবন্ধিত কৃষকের তথ্য সরাসরি পিএম কিষাণ পোর্টালে স্থানান্তরিত করা হবে। যদিও কৃষকবন্ধু প্রকল্পে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কিছু বাড়তি আর্থিক সুবিধা ছিল, তবে সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকদের জন্য অন্যান্য বৈশ্বিক ও জাতীয় সুবিধা পাওয়া অনেক সহজতর হবে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য কৃষিঋণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সহজলভ্যতা এবং সয়েল হেলথ কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোর সুবিধা রাজ্যের প্রান্তিক চাষিরা আরও দ্রুত ও সরাসরি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *