রাজ্যে ৬ হাজার সরকারি কর্মী নিয়োগের মেগা ঘোষণা! বেকারদের জন্য সুখবর দিলেন দিলীপ ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক বড়সড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময় তিনি জানান, রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরগুলোতে দ্রুত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মী নিয়োগ করা হতে যাচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পর কর্মসংস্থানের নিরিখে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পঞ্চায়েত স্তরে চরম কর্মীসংকট চলছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মীকে চারটি পর্যন্ত পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি পরিষেবা এবং আটকে থাকছে জরুরি কাজ। এই সমস্যা মেটাতেই বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর সাড়ে ছয় হাজার পদের একটি তালিকা (শর্ট লিস্ট) তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানানো হয়েছে এবং বিধানসভা অধিবেশনের পর পরবর্তী ক্যাবিনেট বৈঠকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিষেবার গতি বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় অনুদানের সঠিক ব্যবহার
রাজ্য প্রশাসনের মতে, এই নিয়োগের ফলে গ্রামীণ স্তরে সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি আসবে। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, পঞ্চায়েতের কাজের জন্য কেন্দ্র থেকে যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তা সঠিক ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন। অনেক যোগ্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আছেন, তাঁদেরও ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আরও ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ায় বয়সের কারণে পিছিয়ে পড়া প্রার্থীরাও এই নতুন সুযোগের আওতায় আসতে পারবেন।
চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রাজ্যে পালাবদলের পর চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রীরা। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মীর চাকরি যাবে না। বর্তমানে রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারসহ প্রায় ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। সরকার সাফ জানিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলের কোনো কর্মীর প্রতি অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। বরং শূন্যপদ পূরণ করে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করাই এখন লক্ষ্য। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দেওয়া কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণে এটিই প্রথম বড় মাপের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হতে চলেছে।
