রাম মন্দিরের ৩,৫০০ কোটির প্রণামী উধাও, সিটের রিপোর্টে ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অযোধ্যার রামমন্দিরের তহবিলে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য শ্রী কৃষ্ণমোহনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ টিনু যাদব, অনুকল্প মিশ্র-সহ আটজন এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মামলা রুজু করেছে।
বিপুল অনুদান ও গায়েব হওয়া সম্পদ
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২০ সালে রামমন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠিত হয়। সিটের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত মন্দিরে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ প্রণামী এবং প্রচুর সোনা-রুপোর গয়না জমা পড়েছে। তবে এই বিপুল ধনরাশির এক বিরাট অংশের কোনও হদিশ মিলছে না। নগদ অর্থ ও গয়নার পাশাপাশি দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষণ্ডি কাকও মন্দিরের হেফাজত থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। এই ব্যাপক অব্যবস্থা ও চুরির কারণে বর্তমান ট্রাস্ট ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালন পর্ষদ গঠনের সুপারিশ করেছে সিট।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪)-সহ একাধিক ধারায় প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে, এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) জাতীয় সভাপতি অলোক কুমার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত শুনানি করে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। ট্রাস্টের অভ্যন্তরে ভিএইচপি-র নিজস্ব লোক এবং খোদ প্রধান চম্পত রাইয়ের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাদের এই কড়া অবস্থান নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠার আশঙ্কায় ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতেই ভিএইচপি প্রকাশ্যে সরব হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে বিজেপির জন্য যথেষ্ট রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
