রাষ্ট্রপুঞ্জের জুলাই রিপোর্টকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি শেখ হাসিনার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাষ্ট্রপুঞ্জের জুলাই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ভলকার তুর্ককে চিঠি শেখ হাসিনার
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই প্রতিবেদনে প্রকৃত সত্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ভলকার তুর্কের কাছে আইনি নোটিশের মাধ্যমে এই তথ্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। হাসিনার আইনজীবীর দাবি, অতিরঞ্জিত তথ্য ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালানো হয়েছে।
তদন্তের নিরপেক্ষতা ও তথ্যের অসঙ্গতি
হাসিনার আইনি দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের গত বছরের ১৫ জানুয়ারিতে প্রকাশিত অফিশিয়াল গেজেটের প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছে। যেখানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টের প্রায় অর্ধেক। হাসিনার চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৬৫০ জনের মতো এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এই সংখ্যা আরও কম হতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ায় এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাসিনার আইনি দল।
এই ঘটনা ও রিপোর্টের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়—এই দুইয়ের টানাপোড়েন দেশটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবে তথ্যের এই ধোঁয়াশা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
