রাস্তা আটকে জুম্মার নামাজে পুলিশের বাধা, রাজাবাজারে চরম উত্তেজনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রাজাবাজার ক্রসিংয়ে শুক্রবারের জুম্মার নামাজকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় প্রতি শুক্রবার মূল রাস্তার একাংশ এবং কিছু সংযোগকারী রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে নামাজ পড়ার রেওয়াজ ছিল। আজ, শুক্রবারও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ রাস্তার ওপর নামাজ পড়তে বসলে প্রশাসন কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। রাস্তা আটকে নামাজ পড়ায় পুলিশ সরাসরি বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
যানজট বনাম স্থানাভাবের বিতর্ক
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর ক্ষুব্ধ জনতার একাংশের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়। অনেকে উত্তেজিত হয়ে এলাকায় মিছিল বের করে ক্ষোভ উগড়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই জনবহুল ও ব্যস্ততম রাস্তাটি আটকে প্রতি সপ্তাহে নামাজ পড়ার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। অন্যদিকে, স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের বক্তব্য, রাজাবাজার এলাকায় জনসংখ্যা অনুযায়ী মসজিদের সংখ্যা বা ধারণক্ষমতা অত্যন্ত কম। ফলে জুম্মার নামাজের মতো বিশেষ দিনে বাধ্য হয়েই তাঁদের রাস্তায় বসতে হয়। তবে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের নেই বলেও তাঁরা জানান।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় থমথমে ভাব বজায় রয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মীয় আবেগ ও রীতিনীতিকে সম্মান জানালেও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা উপাসনা করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতার মতো জনবহুল শহরে রাস্তা আটকে ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে শহরের যান চলাচল সচল রাখতে বড় ভূমিকা নেবে। তবে স্থানাভাবের স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে এই ধরনের উচ্ছেদ বা নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
