রাস্তা বিবাদের আড়ালে কি রাজনৈতিক আক্রোশ, মুর্শিদাবাদে পিটিয়ে খুন বিজেপি সমর্থক বৃদ্ধাকে! – এবেলা

রাস্তা বিবাদের আড়ালে কি রাজনৈতিক আক্রোশ, মুর্শিদাবাদে পিটিয়ে খুন বিজেপি সমর্থক বৃদ্ধাকে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুর্শিদাবাদে ফের রাজনৈতিক হিংসার রক্তাক্ত ছায়া। এবার বাড়ির রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে মারধরের জখম হয়ে এক বিজেপি সমর্থক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার একুম্বা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বছর ৬১-র ওই বৃদ্ধার নাম মাধবী বাগদি। বুধবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেহটি ময়নাতদন্তের পর গ্রামে ফিরতেই গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগ

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা মাধবী বাগদির পরিবার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বাড়ি থেকে বেরোনোর একটি রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের একাংশের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সকালে সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে এবং প্রতিবেশীদের একটি দল মাধবী বাগদির পরিবারের ওপর আচমকা লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন মাধবী দেবী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বুধবার সন্ধ্যায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই নৃশংস হামলার নেপথ্যে কেবলই রাস্তার বিবাদ ছিল না, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বিজেপি করার অপরাধেই তাঁদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার মৃতার বাড়িতে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুখেন কুমার বাগদি। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন এবং রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের তীব্র নিন্দা করেন।

এলাকায় চরম উত্তেজনা ও গ্রেপ্তার চার

এই ঘটনার পর থেকেই একুম্বা গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, যা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহলদারি শুরু হয়েছে। বড়ঞা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *