রঙিন স্মৃতির প্রাচীর ভেঙে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ আমির-পূজার ৩৫ বছর আগের না পাওয়া প্রেম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বলিউডের অন্দরে ক্যামেরার পেছনে কত সম্পর্ক গড়ে ওঠে আবার কত সমীকরণ সময়ের নিয়মে হারিয়ে যায়। তবে কিছু স্মৃতি থেকে যায় অমলিন, যা যুগের পর যুগ পেরিয়েও দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯১ সালের ক্লাসিক সিনেমা ‘দিল হ্যায় কে মানতা নহি’-র শুটিংয়ের দিনগুলো নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করলেন বলিউড অভিনেত্রী পূজা ভাট। সহ-অভিনেতা আমির খানের সঙ্গে তার সেই সময়ের টক-মিষ্টি সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি ভক্তদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন ৩৫ বছর আগের এক রঙিন অতীতে।
টুপির রহস্য ও পারফেকশনিস্ট আমির
সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে পূজা ভাট মনে করিয়ে দেন আমির খানের সেই বিখ্যাত টুপির কথা, যা পুরো সিনেমায় আমিরের মাথায় দেখা গিয়েছিল। পূজা জানান, টুপিটি আসলে আমির তার ছোট্ট ভাগ্নের কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। শুটিং ফ্লোরে এই টুপি নিয়ে নানা রসিকতা হলেও পরে তা তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিনেমার সেট থেকেই আমিরের ‘পারফেকশনিস্ট’ ইমেজের সূত্রপাত হয়েছিল উল্লেখ করে পূজা বলেন, আমির প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে ছিলেন এবং সঠিক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যেতেন। অনেকে একে বাঁকা চোখে দেখলেও পূজার কাছে এটি ছিল একজন প্রকৃত অভিনেতার অনুসন্ধিৎসু মন।
টম অ্যান্ড জেরি সমীকরণ ও না পাওয়া প্রেম
শুটিং সেটে আমির ও পূজার সমীকরণ কেমন ছিল, তা জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন যে তাদের সম্পর্ক ছিল ঠিক ‘টম অ্যান্ড জেরি’-র মতো। জায়গা নিয়ে কাড়াকাড়ি, পা টেনে দেওয়া কিংবা হিল জুতো নিয়ে খোঁচা দেওয়ার মতো নানা মজাদার কাণ্ড ঘটাতেন তারা। তৎকালীন গসিপ ম্যাগাজিনের প্রেমের গুঞ্জন প্রসঙ্গে পূজা সাবলীলভাবে জানান, সে সময় তাদের একে অপরের প্রতি গভীর মুগ্ধতা ও ভালো লাগা ছিল। তবে সেই মুগ্ধতা কখনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের রূপ নেয়নি। ফলে কোনো তিক্ততা ছাড়াই আজও সেই অধ্যায়টি তাদের জীবনে একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের এমন অকপট ও পরিপক্ব স্মৃতিচারণ বলিউডের কাজের পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, সম্পর্কের গুঞ্জন বা ভাঙা-গড়ার ঊর্ধ্বে গিয়েও পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা সম্ভব। আমির খান পরবর্তীতে ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গেলেও, পূজার এই স্মৃতিচারণ ভক্তদের মনে আবারও প্রমাণ করল যে বলিউডের পুরোনো দিনগুলোর বন্ধুত্ব ও নস্টালজিয়া আজও কতটা খাঁটি।
