“রাস্তায় দাঁড়িয়ে গোমাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে!” মন্ত্রী হয়েই মেজাজে দিলীপ ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও। সেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁদের ইডলি ও দই বড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এই অনানুষ্ঠানিক আড্ডাতেই মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে জনসমক্ষে বা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গোমাংস ভক্ষণ আর বরদাস্ত করা হবে না।
শান্তি বজায় রাখা ও অনুপ্রবেশ রোধে অনড় অবস্থান
মন্ত্রী হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকার কী হবে, সে প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, সাধারণ মানুষের মনে যে ভরসা তৈরি হয়েছে তা ধরে রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “মানুষ যাতে নিরাপদ বোধ করেন এবং শান্তিতে বাস করতে পারেন, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।” অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, রামনবমীর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে যাতে কোনো বাধা না আসে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং বাইরে চলে যাওয়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও জোর দেন।
উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবায় নজর
দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলায় প্রকৃত উন্নয়ন হলে তবেই দেশ বিদেশের সমতুল্য হয়ে উঠবে। স্বামী মন্ত্রী হওয়ায় তাঁর কাছে রিঙ্কু মজুমদারের বিশেষ অনুরোধ, খড়গপুর-সহ রাজ্যের যেসব এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে, তা যেন দ্রুত সমাধান করা হয়। এছাড়া তৃণমূল আমলের ‘কাটমানি’ ও ‘তোলাবাজি’ সংস্কৃতির চিরতরে অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রকাশ্যে গোমাংস খাওয়া বন্ধের এই বার্তা রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধর্মীয় আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
