রেশম শিল্পীদের টাকা লুঠ! ‘চোর’ স্লোগান তুলে বীরভূমে তৃণমূল নেতাকে ঘেরাও জনতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বীরভূম: সরকারি অনুদানের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ধুন্ধুমার বীরভূমের মাড়গ্রামে। রেশম শিল্পীদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে অবরুদ্ধ হলেন বিষ্ণুপুর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি নন্দ দুলাল দাস-সহ চারজন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, জনরোষ থেকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি তাঁদের আটক করে এলাকা ছাড়ে পুলিশ। গাড়িতে তোলার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান।
কীভাবে লোপাট হলো সরকারি টাকা?
রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের রেশম শিল্পী তন্তুবায় সমবায় সমিতির মূল কাজ সিল্ক ও তসর শিল্পের কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো। অভিযোগ, শিল্পীদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকারের পাঠানো অনুদানের বিপুল পরিমাণ টাকা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়নি।
- মনগড়া কমিটি: শিল্পীদের অভিযোগ, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নন্দ দুলাল দাসের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি কমিটি গঠন করে দিনের পর দিন এই সরকারি তহবিল তছরুপ করা হচ্ছিল।
- হিসাব দিতে ব্যর্থ: রবিবার এই সমবায় সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে গেলেও কমিটির সদস্যরা সঠিক হিসাব মেলাতে পারেননি।
- জনতার ক্ষোভ: হিসাব না পেয়ে ধৈর্য হারান বঞ্চিত শিল্পীরা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়।
‘টাকা দিয়েও ঘর পাইনি’
নিতাই পদ মাল নামে এক ভুক্তভোগী রেশম শিল্পী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার কাছ থেকে পাকা বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধন দালাল তিন হাজার টাকা নিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কোনও ঘর পাইনি।”
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাসের অভিযোগ, “একজন নিরীহ মানুষকে সম্পাদকের চেয়ারে বসিয়ে রেখে নেপথ্যে তৃণমূলের নেতারা লক্ষ লক্ষ টাকা লুটেপুটে খেয়েছে। সাধারণ মানুষ আজ হিসাব চেয়ে পায়নি বলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।”
পুলিশের দাবি:
মাড়গ্রাম থানার পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। উত্তেজিত জনতার বড়সড় রোষের হাত থেকে বাঁচাতেই তৃণমূল নেতাসহ চারজনকে সাময়িকভাবে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
