মমতা আমাকে বাজারে নামিয়েছেন, বিস্ফোরক বৈশাখীর নিশানায় অরূপ থেকে অনন্যা – এবেলা

মমতা আমাকে বাজারে নামিয়েছেন, বিস্ফোরক বৈশাখীর নিশানায় অরূপ থেকে অনন্যা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে এবার মারাত্মক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং এর জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে না রেখে প্রকাশ্য আনার কারণেই তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। একই সঙ্গে দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও শোভনের দূরত্ব

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া এবং দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পেছনে ফিরহাদ হাকিমের হাত ছিল বলে দাবি করেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শোভনকে মেয়র পদ থেকে সরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে দল অথবা বৈশাখীর মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ শোভন দল থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ফিরহাদ হাকিমের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক আধিপত্য ও দলের ‘কর্পোরেট’ সংস্কৃতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। শোভন ও শুভেন্দু অধিকারী যে অতীতে আইপ্যাকের বিরোধিতা করেছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

রংমিলান্তি বিতর্ক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অত্যন্ত গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন তিনি। একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা উল্লেখ করে বৈশাখী দাবি করেন, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। সম্প্রতি অনন্যার ওয়ার্ড অফিস থেকে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষিতেও তাঁকে তীব্র নিশানা করেন বৈশাখী।

তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দল পরিচালনায় সঠিক সিদ্ধান্তের অভাব এবং যোগ্য নেতাদের কোণঠাসা করার খেসারত দিতে হচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। এই বিস্ফোরক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে, যা আগামী দিনে শাসক দলের অন্দরে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *