কৃষকদের সুদিন ফেরাতে সিঙ্গুরে আলু করিডর! আশায় বুক বাঁধছে হুগলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষতির মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় হুগলির সিঙ্গুরের আলুচাষিরা। পূর্বতন সরকারের আলু রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে যে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এবার সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে ‘আলু করিডর’ গড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে বাংলার আলু চাষের প্রাণকেন্দ্রে ফের আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ কৃষকরা।
ভৌগোলিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক পটপরিবর্তন
কলকাতা থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিঙ্গুর দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, রাজ্য সড়ক ও রেলপথ দ্বারা দারুণভাবে সংযুক্ত। তারকেশ্বর, হরিপাল, পাণ্ডুয়া ও বলাগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি এই আলু চাষ। বিগত কয়েক বছরে ফলন ভালো হলেও, পূর্বতন সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার জেরে চাষিরা উৎপাদিত আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। উদ্বৃত্ত আলু নষ্ট হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন তাঁরা। বর্তমান সরকারের ‘আলু করিডর’ এবং অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ার এই ভাবনার মূল কারণ হলো কৃষকদের সেই আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা। এর ফলে উৎপাদিত ফসলের সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ নিশ্চিত হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আশার আলো দেখছে কৃষক সমাজ
এই নয়া উদ্যোগে সিঙ্গুর সহ আশেপাশের এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, অতিরিক্ত ফলনের পর আলু রপ্তানি করতে না পারায় যে লোকসান হতো, এই করিডর তৈরি হলে সেই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান মিলবে এবং তাঁদের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সিঙ্গুরের বিধায়ক অরূপকুমার দাস জানান, হুগলির আলুর উন্নত গুণমান ও সিঙ্গুরের সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগাতেই এই শিল্প গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিগত দিনের বঞ্চনা মুছে ফেলে কবে এই ‘আলু করিডর’ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কৃষকরা।
