লকারে সোনা ফেলে না রেখে বাজারে আনুন! মোদীর আরজির মাঝেই বড় দাওয়াই টাইটান কর্তার – এবেলা

লকারে সোনা ফেলে না রেখে বাজারে আনুন! মোদীর আরজির মাঝেই বড় দাওয়াই টাইটান কর্তার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে আগামী এক বছর সোনা না কেনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা সাম্প্রতিক আবেদন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সোনার আমদানি কমাতে এক বিকল্প পথ বাতলেছেন টাটা গোষ্ঠীর খ্যাতনামা সংস্থা টাইটান কো ম্পা নির সিএফও অশোক সোনথালিয়া। তাঁর মতে, মন্দির, ব্যাংক লকার এবং সাধারণ মানুষের ঘরে অলসভাবে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনার ‘রোটেশন’ বা পুনর্ব্যবহার শুরু করলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সোনার রোটেশন

বিজনেস টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অশোক সোনথালিয়া জানান, সরকারের মূল উদ্বেগ মূলত সোনার আমদানি ব্যয় নিয়ে। ভারতের মন্দির এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে যে পরিমাণ সোনা গচ্ছিত রয়েছে, তা যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে আমদানির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাইটান ও তানিষ্ক ইতিমধ্যে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুরনো সোনা বদলের ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বর্তমান সংকটকালে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাজারের ওপর প্রভাব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার সাশ্রয় করতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে নতুন সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পর থেকেই দেশের গয়না শিল্পে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শেয়ার বাজারে টাইটানের মতো বড় সংস্থাগুলোর শেয়ার দরে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর গয়না শিল্পের প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মূলত তেলের উচ্চমূল্য ও সোনার আমদানির দ্বিমুখী চাপ সামাল দিতেই সরকার ও শিল্পমহল এখন বিকল্প পন্থায় গুরুত্ব দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *