লক্ষণ শেঠের পর এবার মমতার রাজত্ব শেষ করার চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর!
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/02/suvendu-adhikari-2.jpg)
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করার স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, অতীতে যেমন তিনি লক্ষণ শেঠের আধিপত্য খতম করেছিলেন, এবার একইভাবে তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটাবেন।
পরিবারবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগ
ভবানীপুরের প্রচার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে পরিবারবাদ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে সরব হন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের ক্রীড়া সংগঠন থেকে শুরু করে আবাসন প্রকল্প—সর্বত্রই মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রভাব বিদ্যমান। নির্দিষ্টভাবে ৩৮টি প্লট এবং বিলাসবহুল ‘সৌজন্য’ ভবন নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আর্থিক অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং পুলিশের অতি-সক্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।
রাজনৈতিক কৌশল ও মেরুকরণ
শুভেন্দুর বক্তৃতায় উঠে এসেছে এনআরসি এবং আসন পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। তবে ভোটাররা এখন অনেক সচেতন এবং তাঁরা এই ধরনের রাজনৈতিক ফাঁদে পা দেবেন না বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের পাল্টা জবাবে তিনি রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণের কঠোর সমালোচনা করেন।
এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলে ভবানীপুর এখন রাজ্যের মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুভেন্দুর এই সরাসরি আক্রমণ এবং ‘মাইনরিটি গভর্নমেন্ট’ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো শাসকদলের জন্য বড় চাপের কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের ভোটাররা মমতার উন্নয়নের পক্ষে না শুভেন্দুর পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- লক্ষণ শেঠের পতন ঘটানোর উদাহরণ টেনে মমতার রাজনৈতিক ক্ষমতা শেষ করার খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
- পরিবারবাদ, আবাসন বিতর্ক এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে শাসকদলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
- ডিলিমিটেশন বা এনআরসি-র মতো ইস্যুগুলোকে তৃণমূলের রাজনৈতিক জুজু বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু।
