লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রী থাকছেই, অযোগ্যদের বাদ দিতে কড়া নিয়মের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলো কি চালু থাকবে? সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সেই সব জল্পনার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল সরকারের চালু করা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বন্ধ হচ্ছে না। তবে এই সব প্রকল্পের সুবিধা পেতে এবার থেকে মানতে হবে কড়া নিয়ম।
পুরনো প্রকল্প বহাল, তবে হবে স্বচ্ছতা যাচাই
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী বা যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের স্বার্থে যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। তবে প্রকল্পগুলোতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তা দূর করতে তৎপর নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চালু থাকা প্রকল্প বন্ধ হবে না, তবে নিয়মের বাইরে কাউকে সুবিধা দেওয়া হবে না।” অর্থাৎ, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবে অযোগ্য কেউ যাতে এই সুবিধা না পায়, তা নিশ্চিত করাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।
কারা পাবেন না সুবিধা?
প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকায় বড়সড় কাটছাঁটের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন:
- অভারতীয়: ভারতের নাগরিক নন এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
- মৃত ব্যক্তি: তালিকায় নাম থাকা অথচ মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হবে।
- ভুয়া উপভোক্তা: নিয়ম বহির্ভূতভাবে সুবিধা ভোগকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকল্পের পোর্টাল আপডেট করার কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়
রাজ্যের প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পও এবার থেকে বাংলায় পুরোদমে চালু হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নিধি’র মতো প্রকল্পগুলো রাজ্যে যুক্ত হওয়ায় মানুষের জন্য দ্বৈত সুরক্ষাকবচ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।
মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, তিনি কোনো জনমুখী প্রকল্প বন্ধ করে জনরোষ তৈরি করতে চান না। বরং সেই প্রকল্পগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করে প্রকৃত প্রাপকের হাতে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। মূলত সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে আপস না করে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ঘটিয়েই নবান্নে নিজের যাত্রা শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
