লক্ষ্য এবার বেজিং! ‘মিশন দিব্যাস্ত্র’র সফল পরীক্ষায় থরথর করে কাঁপছে চীন-পাকিস্তান – এবেলা

লক্ষ্য এবার বেজিং! ‘মিশন দিব্যাস্ত্র’র সফল পরীক্ষায় থরথর করে কাঁপছে চীন-পাকিস্তান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। ‘মিশন দিব্যাস্ত্র’-এর আওতায় অত্যাধুনিক অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে দেশটি তার সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। ওড়িশার ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে উৎক্ষিপ্ত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিআরডিও (DRDO)-এর বিজ্ঞানীদের তৈরি এই প্রকল্পে নারী বিজ্ঞানীদের নেতৃত্ব এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

প্রযুক্তির শিখরে ভারত এবং এমআইআরভি সক্ষমতা

অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বিশেষত্ব হলো এর ‘মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল’ বা এমআইআরভি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন দিকে অবস্থিত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে হামলা চালানো সম্ভব। এর আগে এই বিধ্বংসী প্রযুক্তি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে ছিল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন বিশ্বের সেই বিশেষ এলিট ক্লাবে নিজের স্থান নিশ্চিত করল। প্রায় ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে ২৪ গুণ দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। ভারতের এই সামরিক শক্তির আওতায় এখন চীন ও পাকিস্তানের প্রতিটি প্রান্ত চলে এসেছে। বিশেষ করে চীনের সুদূর শিল্পাঞ্চল এবং পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ভারতের পাল্টা আঘাতের সীমানার মধ্যে।

এই সক্ষমতা ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। অর্থাৎ, কোনো শত্রু দেশ যদি ভারতের ওপর প্রথম হামলা চালায়, তবে ভারত এমন ভয়াবহ পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম হবে যা প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যুহকে তছনছ করে দেবে। সড়কপথে সহজেই স্থানান্তরযোগ্য হওয়ার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যেকোনো স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা একে আরও বিপজ্জনক ও কার্যকর করে তুলেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এই মিশনটিকে একটি বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার ও প্রতিরক্ষা মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *