লরি থামিয়ে শরবত খেতে যাওয়াই কাল! নদিয়ায় জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত কলকাতার চালক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নদীয়ার শান্তিপুর থানার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বাঁথনা এলাকায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক লরি চালক। শনিবার দুপুরে রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগরগামী একটি লরি রাস্তার পাশে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়লে, পিছন থেকে আসা অন্য একটি নিয়ন্ত্রণহীন লরি সেটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশ এসে গুরুতর জখম চালককে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত চালকের নাম উত্তম উপাধ্যায় (৪০) এবং তিনি কলকাতার সাহাপুরের বাসিন্দা।
তদন্তে পুলিশ ও পলাতক চালকের খোঁজ
দুর্ঘটনার পর সুযোগ বুঝে দাঁড়িয়ে থাকা লরিটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শান্তিপুর থানার পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরি দুটিকে ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে। গাড়ির নথিপত্র পরীক্ষা করে ডানকুনিবাসী মালিকের সন্ধান মেলে এবং তাঁর মাধ্যমেই নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পলাতক চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করার পাশাপাশি গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চলন্ত অবস্থায় হুট করে সড়কের পাশে শরবতের দোকানের সামনে লরি থামিয়ে দেওয়াই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। হাইওয়ের মতো ব্যস্ত রাস্তায় এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আচমকা গাড়ি পার্কিং করার ফলে পিছনের লরিটি ব্রেক কষার পর্যাপ্ত সময় পায়নি। এই দুর্ঘটনার জেরে শান্তিপুরের ওই জাতীয় সড়কে সাময়িকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। এই ঘটনা হাইওয়েতে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোর বিপজ্জনক প্রবণতা এবং ট্রাফিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।
এক ঝলকে
- নদীয়ার শান্তিপুর থানার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বাঁথনা এলাকায় লরির ধাক্কায় এক লরি চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
- নিহতের নাম উত্তম উপাধ্যায় (৪০), তিনি কলকাতার সাহাপুর ওড়িয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
- রানাঘাট থেকে কৃষ্ণনগরগামী একটি লরি রাস্তার পাশে অতর্কিতে দাঁড়িয়ে পড়ায় পিছন থেকে আসা অন্য একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা মারে।
- শান্তিপুর থানার পুলিশ লরি দুটিকে বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক চালকের খোঁজ চালাচ্ছে।
