লাখ লাখ টাকার তোলাবাজি, বেহালায় গ্রেপ্তার দাপুটে কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতায় ফের শাসকদলের এক দাপুটে জনপ্রতিনিধির গ্রেপ্তারির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে বেহালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১৬ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান সুদীপ পোল্লের নামে। তাঁর বিরুদ্ধে বেহালার শিলপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হুমকি এবং লাখ লাখ টাকা তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর লালবাজারের সবুজ সংকেত মেলাতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং রবিবারই তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
ব্যবসায়ীকে মারধর ও হুমকি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে শিলপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী ঠাকুরপুকুর থানায় সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কাউন্সিলর ও তাঁর অনুগামীরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে বেহালার এই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও সিবিআই তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছিল সুদীপকে।
দুর্নীতি দমনে জোরদার তৎপরতা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। পুলিশকে দলমত নির্বিশেষে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের এই নতুন অবস্থানের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে শহর ও শহরতলিতে শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীর গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটছে। তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র সাত দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সাঁড়াশি অভিযানের মাঝেই এবার কলকাতার এক হেভিওয়েট কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারির ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
