শত্রুদেশের সঙ্গেও আলোচনার দরজা বন্ধ নয়! আরএসএস নেতার প্রস্তাবে অস্বস্তিতে মোদী সরকার? – এবেলা

শত্রুদেশের সঙ্গেও আলোচনার দরজা বন্ধ নয়! আরএসএস নেতার প্রস্তাবে অস্বস্তিতে মোদী সরকার? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং আলোচনার দরজা নতুন করে খুলতে আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ)-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলের সাম্প্রতিক প্রস্তাব ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঙ্ঘের এই শীর্ষ নেতা সাফ জানিয়েছেন, কোনো দেশেরই অন্য দেশের জন্য আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ রাখা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখা নরেন্দ্র মোদী সরকারের ওপর এই মন্তব্যের পর এক নতুন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও বিজেপি বা আরএসএস নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি, তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার এবং বিদেশ মন্ত্রক বরাবরই ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না’ এই নীতিতে অনড়। ফলে সঙ্ঘের অন্দর থেকে আসা এই উদারপন্থী সুর মোদী সরকারের দীর্ঘদিনের অনুসৃত বিদেশনীতিকে এক অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সংযোগের জল্পনা

আরএসএস নেতার এই আকস্মিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কূটনৈতিক স্তরে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এই বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানালেও নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে। তবে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভনে এই প্রস্তাবকে সরাসরি সমর্থন করে জানিয়েছেন, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক না থাকলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির ক্ষতি হয়। একইভাবে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও হোসাবলের এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই মন্তব্যের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, আরএসএস নেতার সাম্প্রতিক আমেরিকা সফরের পরপরই এই ধরণের মন্তব্য করার পেছনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে মার্কিন প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন চাপ কাজ করে থাকতে পারে।

সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের সম্ভাব্য প্রভাব ও জটিলতা

২০১৮ সাল থেকে ভারতের মাটিতে একের পর এক পাকিস্তান-মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছে, যার প্রভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতার মঞ্চ ‘সার্ক’ একপ্রকার অচল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরএসএস নেতার প্রস্তাব মেনে ভারত যদি পাকিস্তানের সুশীল সমাজ ও সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা শুরু করে, তবে তা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ওপর সে দেশের জনগণের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াতে পারে। তবে পাকিস্তানের মূল চালিকাশক্তি যেহেতু দেশটির সেনাবাহিনী, তাই সেনাতন্ত্রকে এড়িয়ে বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের এই কৌশল বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে গভীর সংশয় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *