নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া! বকেয়া DA ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আগামী সপ্তাহেই বড় ঘোষণা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। নবান্ন থেকে মহাকরণ— সর্বত্রই এখন এই দুই মূল দাবি পূরণ হওয়া নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কর্মচারীদের এই দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মেটাতে দ্রুত কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার আন্দোলনরত রাজ্য কর্মচারীদের মঞ্চে গিয়ে সংহতি জানিয়েছিলেন, যা বর্তমানে ক্ষমতাবদলের পর কর্মচারীদের প্রত্যাশাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো শীর্ষ নেতারাও এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। ফলে কর্মচারীদের ধারণা, আগামী মাসের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হতে পারে। নবগঠিত সরকার গত শনিবারে শপথ নেওয়ার পর সপ্তাহান্তে সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ থাকলেও, ডিএ ও বেতন কমিশন চালুর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা বেশ জোরালো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে নবান্ন বা মহাকরণ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
বকেয়া ডিএ মামলা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের দাবিতে কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় কর্মচারীদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ না মেলায় কর্মচারীরা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বর্তমানে নতুন রাজ্য সরকার এই ডিএ মামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ও মতামত পেশ করার জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এর ফলে চলতি মাসের শেষের দিকেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে।
সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই মহার্ঘ ভাতা ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একদিকে যেমন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বড় আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর হবে, অন্যদিকে রাজ্য কোষাগারের ওপর একটি বড় আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
