শাসন নয়, লক্ষ্য কেবল সেবা; ভবানীপুরে পুজো দিয়ে সংকল্প মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের – এবেলা

শাসন নয়, লক্ষ্য কেবল সেবা; ভবানীপুরে পুজো দিয়ে সংকল্প মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। গত শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, আজ রবিবার কালীঘাট ও ভবানীপুরের নকুলেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন তিনি। মন্দির থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, আসন্ন দিনগুলোতে ক্ষমতার দাপট বা শাসন নয়, বরং জনসেবা এবং রাজ্যের উন্নয়নই হবে তাঁর কাজের মূল ভিত্তি।

উন্নয়নই এখন পাখির চোখ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি সরকার গঠন করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পালের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন তাঁদের প্রথম ও প্রধান কাজ। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর নির্দিষ্ট দফতরের নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে তিনি জানিয়েছেন যে আসামাপ্ত উন্নয়নের কাজগুলো দ্রুত শেষ করাই তাঁর বর্তমান লক্ষ্য। তাঁর মতে, ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করে মানুষের মনে হারানো ভরসা ফিরিয়ে আনা এবং শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখাই হবে এই সরকারের অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা

নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করে অগ্নিমিত্রা জানান, ২০১৯ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় তিনি রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকারও ফুটে উঠেছে। একইসঙ্গে তিনি বিরোধী জোটের আদর্শহীন রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, নীতি ও সততার সঙ্গেই তাঁরা বাংলার মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন।

সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘শাসন নয়, সেবা’—এই মন্ত্রের মাধ্যমে নতুন সরকার সাধারণ মানুষের অনেক কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতার পর রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে অগ্নিমিত্রা পালের এই বক্তব্য। উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হলে এবং জনসেবামূলক কাজে স্বচ্ছতা বজায় থাকলে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *