শিলিগুড়ি করিডরে চিনের রক্তচক্ষু, দেশের নয়া সেনাপ্রধান ধীরজ শেঠ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর সংলগ্ন এলাকায় চিনের ক্রমবর্ধমান নজরদারির মাঝেই দেশের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠের নাম ঘোষণা করল কেন্দ্র। শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ জুন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। বর্তমানে সেনাবাহিনীর উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করা এই আধিকারিককে শীর্ষ পদে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা ও রণকৌশল
সুদীর্ঘ সামরিক জীবনে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠের। মরুভূমির বুকে আর্মার্ড রেজিমেন্ট থেকে শুরু করে পশ্চিম সীমান্তে আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্সের সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সেনার অন্যতম শক্তিশালী ‘সুদর্শন চক্র কোর’-এর পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ কমান্ডের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দক্ষতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।
সেনার আধুনিকীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রথাগত রণকৌশলের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে ধীরজ শেঠের অবদান অনস্বীকার্য। এআই ড্রোন, নতুন প্রজন্মের সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপর তিনি বরাবরই বিশেষ জোর দিয়ে এসেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতীয় সেনার মূল ফোকাস পাকিস্তানের পাশাপাশি চিনের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলার দিকেও ঘুরেছে। এই পরিস্থিতিতে নয়া সেনাপ্রধানের এই প্রযুক্তিগত দূরদর্শিতা এবং আধুনিকীকরণের মানসিকতা ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রস্তুতিতে ভারতীয় সেনাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। চিনের মোকাবিলায় সেনার পরিকাঠামোগত এবং প্রযুক্তিগত শক্তি বৃদ্ধি করে দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করাই হবে তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান প্রভাব।
