‘শুধু বুলডোজার নয়, রুটিরুজির কথাও ভাবুন!’ উচ্ছেদ-বিতর্কে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রাকে খোলা চিঠি শ্রীলেখার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: শহরের বিভিন্ন বাজার ও ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে যখন বিতর্ক চরমে, ঠিক তখনই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, শ্রীলেখার স্পষ্ট আবেদন— শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উচ্ছেদ করলেই হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার দিকটিও প্রশাসনকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
কী লিখলেন শ্রীলেখা?
ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কলকাতাকে পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল রাখার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষদের হঠাৎ করে দোষারোপ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁর মতে:
- আগে প্রয়োজন শিক্ষা ও বিকল্প: প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত মানুষদের শুধু নিয়ম মানতে বাধ্য করলেই হবে না। তাঁদের বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝে আগে শিক্ষিত করতে হবে এবং টেকসই জীবিকার নিশ্চিত ব্যবস্থা করতে হবে।
- বিদেশের সঙ্গে তুলনা নয়: বিদেশের পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে মুগ্ধ হলেও সেখানকার সঙ্গে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবের আকাশপাতাল তফাত। কর্মসংস্থানের অভাব, দারিদ্র্য এবং জনসংখ্যার চাপ বিবেচনা না করে শুধুমাত্র বুলডোজার চালালে আখেরে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
- বৈষম্য দূরীকরণ: গরিবদের আরও কোণঠাসা বা প্রান্তিক না করে, শিক্ষা ও উপযুক্ত সুযোগ দিয়ে তাঁদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই হওয়া উচিত প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্য।
নগরোন্নয়ন দফতরের নতুন পদক্ষেপ:
অন্যদিকে, শহরকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর নির্দেশে বাজার এলাকার জন্য বেশ কিছু নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:
- বাজার এলাকায় নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক শৌচাগার এবং পিচ্ছিল জায়গায় কংক্রিটের স্ল্যাব নির্মাণ।
- নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
- মাছ-মাংসের দোকানের পাশের নর্দমা রোজ পরিষ্কার করা এবং প্রতিটি দোকানে আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা।
- অনুমোদিত জায়গার বাইরে দোকান সম্প্রসারণ বা দখলদারির বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ এবং শ্রীলেখা মিত্রের মানবিক আবেদন— সব মিলিয়ে শহর উন্নয়ন বনাম সাধারণ মানুষের রুটিরুজির এই প্রশ্নই এখন নয়া চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
