তারাতলা বিপর্যয়ে শুভেন্দুর নিশানায় রহস্যময় কালী! কাঠগড়ায় পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়া – এবেলা

তারাতলা বিপর্যয়ে শুভেন্দুর নিশানায় রহস্যময় কালী! কাঠগড়ায় পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তারাতলার মর্মান্তিক নির্মাণ বিপর্যয়ে যখন শহর কলকাতা শোকস্তব্ধ, ঠিক তখনই এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর নাম। বেআইনি নির্মাণে মদতের অভিযোগ তুলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় নিশানা করেছেন পুরসভার এক আধিকারিককে। তাঁর দাবি, ‘কালী’ নামের ওই ব্যক্তিকে জেরা করলেই দুর্নীতি ও বেআইনি অনুমোদনের সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসবে। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

কে এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় থাকা এই ব্যক্তির পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা পুরনিগমের চিফ ম্যানেজার পদে কর্মরত। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কালীচরণ একসময় তাঁর ওএসডি (OSD) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরসভা সূত্রে খবর, মেয়রের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত এই আধিকারিকের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া কোনও বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পেত না। বর্তমানে তিনি সাংসদ তহবিল সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও, পুরসভার অন্দরে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অন্যান্য আধিকারিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বাইপাসের ধারে তৃণমূলের ২০০ কোটি টাকার ভবন নির্মাণের টাকার জোগান দিতেন এই কালী। তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই তিনি কাজ করতেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ এখানে বেশ জটিল। কারণ, অতীতে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আইনজীবী সঞ্জয় বসু এই কালীচরণের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ফিরহাদ হাকিমও মুখ্যমন্ত্রীর দাবির প্রেক্ষিতে পালটা জানিয়েছেন যে ক্যামাক স্ট্রিট আসলে কালীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে।

তারাতলায় একাধিক প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে বেআইনি নির্মাণ এবং অনুমোদনে চূড়ান্ত গাফিলতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এবার এই ঘটনার তদন্তে কালীচরণের নাম জড়িয়ে পড়ায় পুরসভার অন্দরের বড়সড় দুর্নীতিচক্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল অভিযোগের ফলে আগামী দিনে তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুরসভার একাধিক শীর্ষ আধিকারিক নজরে আসতে পারেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও অভিযুক্ত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিতর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *