শুভেন্দুর আপ্ত সহায়কের মৃত্যুতে রণংদেহি বিজেপি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে বড় চক্রান্তের অভিযোগ

রাজ্যে ভোট মিটলেও রাজনৈতিক হিংসার রেশ যেন কাটছেই না। এবার খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই হামলাকে ‘সুপরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন।
বিজেপির বুকে গুলি ও গভীর নীল নকশা
শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই ঘটনা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে পেশাদার ঘাতকদের হাত। সামনেই প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, আর তার ঠিক আগেই এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলাকে কেন্দ্রের প্রতি একটি অশুভ বার্তা হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। শমীক ভট্টাচার্যের সাফ কথা, সরাসরি বিজেপির বুকে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার ধরন দেখে একে ঠান্ডা মাথার ‘নীল নকশা’ হিসেবেই চিহ্নিত করছে দল।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘চরম অরাজকতা’ আখ্যা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে রাজ্যে সংবিধানের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রশাসনের রাজনীতিকরণ এবং বারাসাত-মধ্যমগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়া নিয়ে তিনি সরব হন। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাল নথিসহ যে অনুপ্রবেশকারীরা ধরা পড়ছে, তাদের অনেকেরই যোগসূত্র রয়েছে এই অঞ্চলগুলোর সঙ্গে।
নির্বাচনী ফলাফল এবং পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ করে বিজেপি নেতৃত্ব জানাচ্ছে যে, জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তাদের কর্মীদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজেপি কর্মীদের এখনই কোনো পাল্টা উত্তেজনায় পা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়।
- প্রধানমন্ত্রীর শপথের আগে এই হামলাকে বড় চক্রান্ত হিসেবে দেখছে বিজেপি।
- রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘অরাজক’ বলে আক্রমণ শমীক ভট্টাচার্যের।
- অনুপ্রবেশকারী ও জাল নথি তৈরির ঘাঁটি হিসেবে বারাসাত-মধ্যমগ্রামকে দায়ী করার অভিযোগ।
