শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে উত্তপ্ত মধ্যমগ্রাম, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি বিজেপির
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/07/suvenduadhikar-2026-05-07-08-41-21.jpg)
ভোট পরবর্তী হিংসার রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে এবার নাম জড়াল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথের। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁকে গুলি করে খুন করেছে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। দোহরিয়া সংলগ্ন রাস্তায় চন্দ্রনাথ বাবুর গাড়ি আটকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। বুক, মাথা ও পেটে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পেশাদার খুনিদের নিখুঁত ছক
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি কোনো অপেশাদার অপরাধীর কাজ নয়। আততায়ীদের লক্ষ্য এতটাই নিখুঁত ছিল যে প্রতিটি গুলি গাড়ির কাঁচ ভেদ করে সরাসরি চন্দ্রনাথ বাবুর শরীরে বিঁধেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বেশ কিছুদূর থেকেই আততায়ীরা বাইক নিয়ে গাড়িটির পিছু নিয়েছিল এবং আগে থেকেই এলাকাটিতে রেইকি করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন তদন্তকারীদের একাংশ।
রাজনৈতিক সংঘাত ও শাহকে ফোন
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোনে গোটা বিষয়টি জানান। সূত্রের খবর, এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত বাংলা সফরে আসতে পারেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই খুনের ঘটনায় নিন্দা জানালেও পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। শাসক শিবিরের দাবি, গত কয়েকদিনে তাদেরও তিনজন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বর্তমানে গোটা মধ্যমগ্রাম ও বারাসাত জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
