শুভেন্দুর বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল রাজ্য, তৃণমূলের নালিশ নির্বাচন কমিশনে!
নির্বাচন বিধিলঙ্ঘনের অভিযোগ: শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের জেরে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন। নন্দীগ্রামে আয়োজিত জনসভার ভাষণে তিনি যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা আদর্শ আচরণবিধি পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি পৃথক আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ ও তৃণমূলের অবস্থান
তৃণমূলের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছেন। জনসভায় তাঁর করা “পাশে মোল্লা আছে, সাবধান” মন্তব্যটিকে তৃণমূল অত্যন্ত উসকানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশানা করে ভোটারদের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া নন্দীগ্রামের মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে তাঁর মন্তব্যকে সরাসরি ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে তৃণমূল।
বদলার হুঙ্কার ও আইনি জটিলতা
শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক মন্তব্যই নয়, সরাসরি ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শুভেন্দু, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জনসভায় তাঁকে বলতে শোনা গেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তিনি ‘নাকে লঙ্কার গুঁড়ো ঘষে দেবেন’। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই ধরণের বক্তব্য প্ররোচনামূলক এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, শুভেন্দুর এই আচরণ ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন বা বিএনএস-এর বিভিন্ন ধারা যেমন—নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধের শামিল। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(৩এ) ধারা লংঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
কমিশনের কাছে তৃণমূলের দাবি
বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং তাঁকে দ্রুত শোকজ করার আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন তিনি এহেন মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন, সেই মর্মে কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা জারি করার আর্জিও রাখা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- অভিযোগের কারণ: নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রদায়িক মন্তব্য এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।
- তৃণমূলের পদক্ষেপ: নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে শাসক দল।
- প্রধান অভিযোগসমূহ: আদর্শ আচরণবিধি ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের লঙ্ঘন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন এবং রাজনৈতিক বদলার হুমকি।
- আইনি ধারা: বিএনএস-এর ১৭১, ১৯৬, ২৯৯ ও ৩৫১ ধারার আওতায় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।
- চাহিদা: বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শোকজ নোটিশ পাঠানোর আবেদন।
