শুভেন্দুর সেই ৫ শতাংশের অঙ্কই কি বদলে দিল বাংলার ভাগ্য!

শুভেন্দুর সেই ৫ শতাংশের অঙ্কই কি বদলে দিল বাংলার ভাগ্য!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দখল নিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সেই বহুল চর্চিত ‘৫ শতাংশ ভোট’। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় তৃণমূলের ভোট প্রায় ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪০.৮ শতাংশে, আর ঠিক সমপরিমাণ ভোট বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশের গণ্ডি পার করেছে বিজেপি। মাত্র ৫ শতাংশ ভোটের এই ব্যবধানই কার্যত দক্ষিণ থেকে উত্তর—পুরো বাংলার মানচিত্রের রং সবুজ থেকে গেরুয়া করে দিয়েছে।

মোদী ম্যাজিক ও উত্তরবঙ্গের দুর্গ

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, বেশ কিছু জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারবে না। ফল প্রকাশের পর দেখা গেল সেই ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে তৃণমূল কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বিজেপি একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো শিল্পাঞ্চলেও শাসকদলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে।

ভোটের মেরুকরণ ও পালাবদলের নেপথ্যে

২০২৬-এর এই নির্বাচনে রাজনৈতিক পণ্ডিতরা একগুচ্ছ কারণকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, রাজ্যে এবার প্রায় ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদান হয়েছে, যার বড় অংশই গিয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে। দ্বিতীয়ত, গত কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, সরকারি কর্মসংস্থানের অভাব এবং বড় শিল্প না আসার বিষয়টিও ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, সনাতনী ভোটের সংহতি এবং বাম-কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক সরাসরি বিজেপির দিকে সরে আসায় এই বিশাল জয় সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও এবার ফাটল ধরেছে; মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে আইএসএফ ও অন্যান্য দলের উত্থানে তৃণমূলের নিশ্চিত ভোট ভাগ হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি ও দুই দফায় নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ছাপ্পা ভোটের অভিযোগও এবার ছিল নগণ্য। সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মেয়ে’র আবেগ ছাপিয়ে এবার রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের দাবিই শক্তিশালী হয়ে উঠল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *