শেষকৃত্যের আগে নিথর দেহে পরাতে হবে মঙ্গলসূত্র! আত্মঘাতী ইঞ্জিনিয়ার প্রেমিকার দেহ নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে তুলকালাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিয়েতে অস্বীকার করেছিল প্রেমিক। সেই অভিমানে চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন ২৪ বছরের এক তরুণী। তবে মৃত্যুর পরেও শেষ হলো না নাটকীয়তা। সৎকারের আগে মৃত তরুণীকে বিয়ে করতে হবে, এই দাবিতে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে সোজা প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হলেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
একনজরে পুরো ঘটনা:
- মৃতার পরিচয়: আড্ডাগাল্লা কীর্থি (২৪) নামে ওই তরুণী অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং কর্মসূত্রে মুম্বইয়ের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
- আত্মহত্যার কারণ: পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিক সাই সুমন্থ বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কীর্থি। গত ১৪ জুলাই মুম্বইয়ের ভাড়াবাড়ি থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
- পরিবারের দাবি: তরুণীর পরিবারের দাবি, কীর্থির শেষ ইচ্ছে ছিল প্রেমিকের গ্রাম পোন্ডুরুতেই যেন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শুধু তাই নয়, সৎকারের আগে প্রেমিক সুমন্থকে ওই তরুণীর নিথর দেহে মঙ্গলসূত্র পরানোর দাবি নিয়ে প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।
তারপর কী ঘটল? জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক সাই সুমন্থ কর্মসূত্রে কাতারে থাকেন। কীর্থির পরিবার মৃতদেহ নিয়ে যখন তাঁর গ্রামে পৌঁছায়, তখন ওই যুবক বাড়িতে ছিলেন না। মৃতদেহ নিয়ে আসার খবরে দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল বচসা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের মধ্যস্থতায় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর প্রেমিকের পরিবার ওই গ্রামেই তরুণীর শেষকৃত্য করার অনুমতি দেয়। অবশেষে পোন্ডুরু গ্রামেই সম্পন্ন হয় কীর্থির শেষকৃত্য। অন্যদিকে, এই আত্মহত্যার ঘটনায় মুম্বই পুলিশ একটি পৃথক মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
