শ্রাবণ শিবরাত্রিতে অশুভ ‘ভদ্রার’ ছায়া! মহাদেবের জলাভিষেক কি তবে সঙ্কটে? জানুন আসল সত্যি – এবেলা

শ্রাবণ শিবরাত্রিতে অশুভ ‘ভদ্রার’ ছায়া! মহাদেবের জলাভিষেক কি তবে সঙ্কটে? জানুন আসল সত্যি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শ্রাবণ মাস মানেই শিবভক্তদের কাছে এক অগাধ ভক্তি, বিশ্বাস ও আবেগের সময়। ভোরের আলো ফোটার আগেই জল, দুধ, আকন্দ আর বেলপাতা হাতে শিবমন্দিরগুলিতে উপচে পড়ে ভক্তদের ঢল। তবে এ বছরের শ্রাবণ শিবরাত্রি শুরুর আগেই ভক্তদের মনে দানা বেঁধেছে এক বড় সংশয়।

পঞ্জিকার হিসাব বলছে, পুজোর দিন সকালেই দেখা দিচ্ছে অশুভ ‘ভদ্রা’। হিন্দুশাস্ত্রে ভদ্রাকালকে যেকোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের জন্য নিষিদ্ধ ধরা হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে—এই অশুভ ছায়ায় কি তবে মহাদেবের পুজো ও জলাভিষেক ভেস্তে যাবে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ধর্মীয় বিধান?

ভদ্রার সময়সীমা ও ভক্তদের উদ্বেগ

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার পালিত হতে চলেছে শ্রাবণ শিবরাত্রি। ওই দিন সকাল ৫টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ৩টে ২২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে এই ভদ্রাকাল। দিনের সিংহভাগ সময় অশুভ প্রভাব থাকবে জেনে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ সাধারণত বিয়ে, গৃহপ্রবেশ বা নতুন কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে এই সময়টিকে সম্পূর্ণ বর্জন করা হয়।

মহাদেবের পুজোয় কি ভদ্রার কোনো প্রভাব রয়েছে?

শাস্ত্রজ্ঞ ও জ্যোতিষীদের মতে, এই ভদ্রাকাল নিয়ে ভক্তদের অযথা চিন্তিত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

মহাদেব স্বয়ং ‘মহাকাল’ অর্থাৎ কালের অধিপতি। সামাজিক অনুষ্ঠান বা জাগতিক শুভ কাজের ক্ষেত্রে ভদ্রার নিয়ম প্রযোজ্য হলেও ঈশ্বর আরাধনায় এর কোনো অশুভ প্রভাব পড়ে না।

শিবপুরাণ অনুযায়ী, দেবাদিদেবের পুজো, জপ কিংবা জলাভিষেক যেকোনো সময়েই করা যায়। সুতরাং, ১১ আগস্ট সকাল থেকেই কোনো প্রকার দ্বিধা বা ভয় না রেখে ভক্তরা শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা নিবেদন করতে পারবেন। এর জন্য দুপুর ৩টে ২২ মিনিটে ভদ্রাকাল কাটার অপেক্ষা করার কোনো দরকার নেই।

পুজোর দিনের বিশেষ শুভ যোগ

ভদ্রাকালের ভয় দূর করার পাশাপাশি পঞ্জিকা জানাচ্ছে ওই দিনে থাকা বেশ কিছু অত্যন্ত পবিত্র ও দুর্লভ যোগের কথা:

  • সিদ্ধি যোগ: দিনভর সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত বজায় থাকবে এই ফলদায়ী যোগ।
  • পুনর্বসু ও পুষ্যা নক্ষত্র: সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে পুনর্বসু নক্ষত্র এবং এরপরই শুরু হবে অত্যন্ত শুভ পুষ্যা নক্ষত্র।

অতএব, মনে কোনো সংশয় বা ভয় না রেখে সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে ভোলেবাবার মাথায় জল ঢাললে পুণ্যফল লাভ সুনিশ্চিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *