শ্রীকৃষ্ণের কি সেই ৫টি প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী! যা বর্তমান কলিযুগের কঠিন বাস্তবতায় হুবহু মিলে যাচ্ছে জানুন- এবেলা

শ্রীকৃষ্ণের কি সেই ৫টি প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী! যা বর্তমান কলিযুগের কঠিন বাস্তবতায় হুবহু মিলে যাচ্ছে জানুন- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহাভারত কাল থেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কলিযুগ সম্পর্কে নানা অজানা রহস্যের কথা বলে গিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় দেখলে সেই প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়। পাণ্ডবরা যখন বনবাসে যাচ্ছিলেন, তখন যুধিষ্ঠিরের এক প্রশ্নের উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ কলিযুগের আগাম চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তিনি পাণ্ডবদের বনে গিয়ে যা দেখেন তা সন্ধ্যায় এসে জানানোর নির্দেশ দেন। পাঁচ পাণ্ডবের দেখা সেই অদ্ভুত দৃশ্যগুলোর ব্যাখ্যায় লুকিয়ে আছে আজকের সমাজের নগ্ন রূপ।

শাসনের নামে সাধারণ মানুষের শোষণ

যুধিষ্ঠির বনে দুই শুঁড় বিশিষ্ট একটি হাতি দেখেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কলিযুগে এমন এক শাসক শ্রেণির শাসন চলবে যারা মুখে এক বলবে কিন্তু কাজে করবে সম্পূর্ণ অন্য কিছু। তারা ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষকে উভয় দিক থেকে শোষণ করবে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দ্বিচারিতা অহরহ দৃশ্যমান।

ধর্মবেত্তাদের অন্তরালে রাক্ষসী আচরণ

অর্জুন একটি পাখি দেখেছিলেন যার ডানায় বেদের শ্লোক লেখা ছিল, অথচ সে একটি মৃত পশুর মাংস খাচ্ছিল। শ্রীকৃষ্ণ এর গূঢ় অর্থ বুঝিয়ে বলেন যে, কলিযুগে তথাকথিত জ্ঞানী বা ধার্মিক ব্যক্তিরা মুখে শাস্ত্রের কথা বললেও মনে মনে অন্যের সম্পদ হরণের চিন্তা করবেন। তাদের আচরণ হবে রাক্ষসের মতো, যারা কেবল সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে কখন কার মৃত্যু হবে আর তারা সম্পত্তি নিজেদের নামে করে নেবে।

অতি মমতায় সন্তানের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত

ভীম এক গাভীকে দেখেছিলেন যে তার বাছুরকে এতটাই চাটছে যে বাছুরটি রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, কলিযুগে মা-বাবার অতি মমতা ও আসক্তি সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ অন্যের সন্তানকে সাধু হিসেবে শ্রদ্ধা করলেও নিজের সন্তানকে ত্যাগের পথে যেতে দেখলে বাধা দেবে এবং কান্নাকাটি করবে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত মোহ সামাজিক দায়িত্বকে গ্রাস করবে।

প্রাচুর্যের মাঝেও মানবতার অভাব

সহদেব দেখেছিলেন সাতটি জলপূর্ণ কুয়োর মাঝে একটি কুয়ো একদম শূন্য। এর বিশ্লেষণে শ্রীকৃষ্ণ জানান, কলিযুগে ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের বিলাসিতা ও জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানে অঢেল টাকা খরচ করবেন। কিন্তু বাড়ির পাশে কোনো মানুষ যদি অভুক্ত অবস্থায় মারাও যায়, তবে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন না। আজকের ভোগবাদী সমাজে এই বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট।

হরিনামেই হবে কলিযুগের পরিত্রাণ

নকুল দেখেছিলেন একটি বিশাল পাহাড় সমান পাথর বড় বড় বৃক্ষ বা পাথরকে গুঁড়িয়ে নিচে নামছিল, যা কেবল একটি ক্ষুদ্র উদ্ভিদের ধাক্কায় থমকে দাঁড়ায়। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, কলিযুগে মানুষের মন ও নৈতিকতার পতন এতটাই নিচে নামবে যে কোনো পার্থিব ক্ষমতা বা সম্পদ তা আটকাতে পারবে না। তবে এই পতনশীল মনকে একমাত্র ‘হরিনাম’ বা আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেই সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এক ঝলকে

  • দ্বিমুখী নীতি ও শাসনের মাধ্যমে জনগণের শোষণ বৃদ্ধি পাবে।
  • ধর্মজ্ঞানের আড়ালে মানুষের মনে অন্যের সম্পদ দখলের লালসা কাজ করবে।
  • অতি মমতার কারণে সন্তানদের মানসিক ও চারিত্রিক বিকাশ থমকে যাবে।
  • মানুষ বিলাসিতায় সম্পদ অপচয় করলেও দরিদ্রের সাহায্যে বিমুখ হবে।
  • চারিত্রিক অবক্ষয় ও পতন থেকে রক্ষার একমাত্র পথ হবে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *