সংকটকালে ভারতের পাশে ‘পুরনো বন্ধু’ রাশিয়া, জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ঘোষণা মস্কোর
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করল ভারত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরোভ। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বর্তমানে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পণ্য পরিবহন কার্যত ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি ও সার আমদানিতে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতকে আরও বেশি পরিমাণে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো।
দুই দেশের এই বৈঠকে বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি এবং প্রযুক্তি আদান-প্রদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গত সফরের সময় নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে দুই দেশই সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত। পাশাপাশি, ভারতীয় কৃষকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০২৫ সালের মধ্যে সারের জোগান ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কার্বামাইড তৈরির জন্য যৌথ প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য দেখার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি এই সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী বাকি থাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কিছুটা বিলম্বিত হলেও, মানতুরোভ আশ্বাস দিয়েছেন যে কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতেই ভারত আবারও রাশিয়ার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি কেনা শুরু করেছে। এদিনের বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারতের হাত শক্ত করে ধরে মস্কো আবারও প্রমাণ করল যে তারা দিল্লির দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী। এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেল।
