‘নিরপেক্ষ ভোটের কারণেই আজ মুখ্যমন্ত্রী’, মালদা কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দিলীপ ঘোষের

মালদায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীদের পণবন্দি করার ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। বিচারকদেরই যদি কাজ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁরা আক্রমণের শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলায় পুরো সিস্টেমটাকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। বিচারকদের ঘিরে ধরা বা আক্রমণ করার ঘটনা বারবার ঘটছে।” আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন যে, এই অস্থির পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে ভোট হওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, অতীতে নিরপেক্ষ ভোট হয়েছিল বলেই আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে পেরেছেন। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলার সময় গণহারে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে মালদার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার একটি নির্লজ্জ ও পরিকল্পিত চেষ্টা। ঘটনার খবর আগে থেকে থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন বিচারকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি-কে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও জলহীন অবস্থায় বিচারকদের আটকে থাকা নিয়ে কড়া মনোভাব দেখিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে সমস্ত সরকারি কর্মসূচিস্থলে কড়া নিরাপত্তা এবং সাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। আধিকারিক ও তাঁদের পরিবারের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী শুনানিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
