মালদহ কাণ্ডে পুলিশের বড় সাফল্য, বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কারুল ইসলাম

মালদহের সুজাপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা মোফাক্কারুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর সময় তাঁকে জালে তোলা হয়। পেশায় আইনজীবী মোফাক্কারুল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ, গত বুধবার কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসের সামনে সংগঠিত হিংসাত্মক বিক্ষোভের নেপথ্যে মূল উস্কানিদাতা ছিলেন তিনিই। তাঁর নেতৃত্বেই তিন মহিলা আধিকারিক ও একটি শিশুসহ মোট সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে দীর্ঘ সময় ঘেরাও করে রাখা হয়।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় মালদহ জেলা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত জেলাজুড়ে মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৫ জনকে। উত্তরবঙ্গের এডিজি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে কেন বিলম্ব হলো এবং প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে ধৃত মোফাক্কারুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে প্রশাসন। এই গ্রেফতারিকে মালদহ হিংসা তদন্তে পুলিশের একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মালদহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ এবং রাজ্য সরকারের কর্তব্য পালনে চরম ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় ইতিমধ্যেই এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৬ এপ্রিল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কে ভার্চুয়ালি হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
