সংসারে গৃহিণীদের অবদান অমূল্য! মাসিক ৩০ হাজার টাকা ‘বেতন’ ধরল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যুগের পর যুগ ধরে সমাজে গৃহবধূদের শ্রমকে অবমূল্যায়ন করার যে প্রচলিত প্রবণতা রয়েছে, এবার তা নিয়ে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন গৃহবধূর দৈনন্দিন নিরলস পরিশ্রম কোনওভাবেই মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের চেয়ে কম নয়। শুধু তাই নয়, সমাজের প্রতি তাঁদের অমূল্য অবদানের কথা মাথায় রেখে গৃহবধূদের ‘দেশের নির্মাতা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত।
ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে নতুন দিশা
পাঞ্জাবের এক গৃহবধূর পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই যুগান্তকারী মন্তব্য করেছে বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ। সাধারণত, দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির আয়ের উপর ভিত্তি করে ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। কিন্তু গৃহিণীদের সরাসরি আর্থিক উপার্জন না থাকায় বহু ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এই ধারণায় বদল এনে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, একজন গৃহবধূ সংসারের যাবতীয় কাজ, সন্তান পালন এবং বয়স্কদের দেখভালের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিন ধরনের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই পরিশ্রম পরোক্ষভাবে পরিবারের উপার্জনেই বিনিয়োগ হয়। তাই মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেম ট্রাইবুনালের উচিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় গৃহিণীদের এই শ্রমের ন্যূনতম আর্থিক মূল্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা হিসাবে বিবেচনা করা।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বদল ও প্রভাব
এই রায় সমাজে গৃহিণীদের প্রতি চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। রায়ে বলা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে গৃহবধূদের এই নির্ধারিত আয়ের পরিমাণ প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তত ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা উচিত। এই নীতির ভিত্তিতেই ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিমা সংস্থাকে ৬২.৭৮ লক্ষ টাকা তাঁর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যা আগে ট্রাইবুনাল ও হাই কোর্টের রায়ে অনেকটাই কম ছিল। এই সিদ্ধান্ত গৃহবধূদের আইনি সুরক্ষা ও আর্থিক সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের কাজকে সমাজ ও দেশ গঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।
