মেডিকেল কলেজের পদোন্নতিতে বড় পদক্ষেপ, স্বজনপোষণ রুখতে ভিন রাজ্যের পরীক্ষক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের অবসান ঘটাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যাপকদের বিভাগীয় পদোন্নতির ইন্টারভিউতে রাজ্যের কোনও সিনিয়র চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্তা থাকতে পারবেন না। স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি মুছে ফেলতে ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য ভিন রাজ্যের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ চিকিৎসকদের আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ফেরানোর কড়া পদক্ষেপ
বিগত সময় থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন চিকিৎসকদের একাংশ। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের মতো সংগঠন বারবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত মার্চ মাসে প্রফেসর ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে পদোন্নতির যে প্যানেল তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি প্রকাশিত ওই ফলাফলে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যার ফলে অপথ্যালমোলজি ও রেডিয়োলজি বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় নাম থাকা এক চিকিৎসক বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের প্রার্থীও হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ছড়ায় চিকিৎসক মহলে। বিতর্ক বাড়ায় স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা আগের সেই প্যানেল বাতিল করে নতুন করে বিভাগীয় পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও বদলি নীতিতে নজরদারি
পদোন্নতির স্বচ্ছতা রক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিহিংসা দূর করতেও একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ঠিক করা হয়েছে, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষভাবে একজন চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার বা নির্বাচনী আধিকারিক নিয়োগ করা হবে, যার তত্ত্বাবধানে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যে সমস্ত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হয়েছিল, সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলিও বর্তমান স্বাস্থ্যকর্তারা পুনরায় বিবেচনা করে দেখছেন।
মূলত স্বজনপোষণ, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাবই স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই অচলাবস্থার মূল কারণ। এই ধরনের অনিয়ম দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা পরিষেবার মান ও চিকিৎসকদের মনোবল ভেঙে দেয়। নতুন এই পদক্ষেপের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিন রাজ্যের পরীক্ষকদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত হলে তা রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিকাঠামোয় নতুন স্বচ্ছতার নজির স্থাপন করবে।
