তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য দায়ী আইপ্যাক! হারের পর বিস্ফোরক ‘নিষ্ক্রিয়’ অনুব্রত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর অবশেষে মুখ খুললেন বীরভূমের একসময়ের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। হারের কারণ হিসেবে সরাসরি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকার পর বোলপুরের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, আইপ্যাকের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং সংগঠনের বদলে সংস্থার উপর দলের অতি-নির্ভরশীলতাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও দুর্নীতির অভিযোগ
নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনুব্রত জানান, তৃণমূলের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই ১৯৯৮ সাল থেকে দলটি পরিচালিত হয়ে এসেছে এবং ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার গড়েছে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের বিপুল সাফল্যের সময়ও আইপ্যাকের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক বীরভূমের স্থানীয় রাজনীতির বাস্তবতা না বুঝেই দলকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। পাশাপাশি আইপ্যাকের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে দলের বিভিন্ন পদ পাইয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, আইপ্যাক সংগঠনের তথ্য পাচার করেছে এবং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাদের কোনও বাস্তব সংযোগ ছিল না।
দলে কোণঠাসা কেষ্ট এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জল্পনা
এই হারের নেপথ্যে দলের অন্দরের ফাটল এবং অভিমানও প্রকাশ্যে এসেছে। অনুব্রত আক্ষেপ করে জানান, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে কোর কমিটির বৈঠকেও তাঁকে আগের মতো কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, যা তাঁর এইবারের নিষ্ক্রিয়তার অন্যতম কারণ। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে রহস্য জিইয়ে রেখে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলে সম্মান পেলে থাকবেন, অন্যথায় নীরব ভূমিকা পালন করবেন। অন্যদিকে, দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ ও বিধায়কদের আলাদা ফ্রন্ট তৈরি করাকে কার্যত সমর্থন করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে দলের অন্দরে সমীকরণ বদলাতে পারে এবং এই অন্তর্দ্বন্দ্ব তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
