সমুদ্রতলে লুকানো মরণফাঁদ: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বারুদী সুরঙ্গ কেন বিশ্বের জন্য বড় আতঙ্ক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হোরমুজ প্রণালী দিয়ে। সম্প্রতি এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের মাইন বা সমুদ্রগর্ভে লুকানো বারুদি সুরঙ্গ স্থাপনের দাবি ঘিরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইন স্থাপনকারী ইরানি বোট ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই জলপথের নিরাপত্তা এখন খাদের কিনারায়। সমুদ্রের তলদেশে অদৃশ্য ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই মাইনগুলো আধুনিক যুদ্ধে নতুন এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অদৃশ্য ঘাতক ও এর প্রকারভেদ
সমুদ্রের মাইন মূলত জলপথে সাবমেরিন বা জাহাজ ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত বিস্ফোরক ডিভাইস। আধুনিক প্রযুক্তিতে এটি অত্যন্ত ‘বুদ্ধিমান’ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইন প্রধানত তিন ধরনের হয়— কন্টাক্ট মাইন, যা সরাসরি সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয়; ইনফ্লুয়েন্স মাইন, যা জাহাজের শব্দ বা চৌম্বকীয় সংকেত চিনে বিস্ফোরণ ঘটায়; এবং রিমোট কন্ট্রোল মাইন। এমনকি ডুবুরিরা জাহাজের নিচে নিঃশব্দে ‘লিম্পেট মাইন’ লাগিয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
মাইন অপসারণের জটিলতা ও কৌশলগত প্রভাব
সমুদ্র থেকে এই মাইন খুঁজে বের করা ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল কাজ। সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে ড্রাফটিং মাইনগুলো প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে, ফলে একবার এলাকা পরিষ্কার করার পরও তা ফের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইরানের হাতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মাইন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ মাইন হোরমুজ প্রণালীকে কার্যত একটি ‘অস্ত্রাগারে’ পরিণত করেছে, যা ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত সুবিধা প্রদান করছে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০% তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়।
- ইরান এই জলপথে কয়েক হাজার উন্নত প্রযুক্তির মাইন স্থাপন করেছে বলে দাবি আমেরিকার।
- এই মাইনগুলো জাহাজ বা সাবমেরিনের শব্দ ও চাপ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঘাত করতে সক্ষম।
- মাইন অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হওয়ায় এটি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
