সরকার বদলাতেই রণক্ষেত্র মালদহ! লাঠি হাতে মন্দিরের জমি উদ্ধারে গ্রামবাসীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মালদার ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্নবিঘা এলাকায় দেবোত্তর সম্পত্তি দখলমুক্ত করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রায় ২৪ বিঘা জমি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগে এদিন লাঠি হাতে রাস্তায় নামেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে মন্দিরের বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে রেখেছেন ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামী তথা তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন। তাঁদের অভিযোগ, পবিত্র দেবোত্তর সম্পত্তিতে কেবল স্থায়ী পার্টি অফিসই গড়া হয়নি, সেখানে নিয়মিত মদের আসর ও জুয়ার ঠেক বসিয়ে এলাকার পরিবেশ কলুষিত করা হচ্ছে। এতদিন শাসকদলের ‘হুমকি’ ও প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এখন সেই জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই জমিটি কোনো মন্দিরের নয়, বরং স্থানীয় এক ইটভাটা মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং তার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তি পাকানোর জন্য বিজেপি এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিবাদ মেটানোর চেষ্টা চলছে। তবে জমির মালিকানা খতিয়ে দেখে যদি বেআইনি দখলের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশি আশ্বাসে আপাতত বিক্ষোভ সামাল দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় স্তরে জমি সংক্রান্ত এই ধরনের সংঘাত আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।
