সারারাত দেড় টনের এসি চালালে পকেট ফাঁকা হবে কতটা, জেনে নিন আসল হিসাব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরমে পুড়ছে গোটা দেশ। দেশের বহু জায়গায় পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এই অসহ্য গরমে ঘরোয়া বা কর্মক্ষেত্রে এসি ছাড়া টিকে থাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসি ব্যবহারের প্রবণতা এক ধাক্কায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির পাশাপাশি মাসের শেষে বিদ্যুতের মোটা বিল নিয়ে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজও দীর্ঘ হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ পরিবারেই দেড় টনের এসি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সচেতনতা থাকলে এই বিদ্যুৎ বিলের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিল বৃদ্ধির কারণ ও খরচের হিসাব
একটি এসির বিদ্যুৎ খরচ মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এসির স্টার রেটিং, সেটি ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার প্রযুক্তি সম্পন্ন, ঘরে কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় চালানো হচ্ছে এবং প্রতিদিন কত ঘণ্টা চলছে। ৩-স্টার রেটিংয়ের একটি দেড় টন এসি প্রতি ঘণ্টায় সাধারণত ১.১৫ থেকে ১.৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। গড়ে প্রতিদিন রাতে যদি ৮ ঘণ্টা করে এই এসি চালানো হয়, তবে প্রতি ঘণ্টায় ১.৫ ইউনিট হিসেবে দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হবে। এই ধারাবাহিকতায় ৩০ দিনে মোট বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬০ থেকে ৪০৮ ইউনিট। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা হলে মাসে আনুমানিক ২৫২০ থেকে ২৫৫৬ টাকা এবং প্রতি ইউনিটের দাম ৮ টাকা হলে ২৮৮০ থেকে ৩২৬৪ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বিল আসতে পারে। ৫-স্টার রেটিংয়ের এসির ক্ষেত্রে এই খরচের পরিমাণ আরও কম হয়।
বিল সাশ্রয়ের উপায় ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রীষ্মের এই সময়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এসির বিদ্যুৎ বিল অনেকাংশে সাশ্রয় করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি সবসময় ২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় চালানো উচিত, যা পরিবেশ ও শরীর উভয়ের জন্যই উপযুক্ত। একই সাথে সাধারণ নন-ইনভার্টার এসির পরিবর্তে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি ব্যবহার করলে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ বাঁচানো যায়। এসি চালু রাখার সময় ঘরের দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং জানালোর কাচ ভারী পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া জরুরি, যাতে বাইরের গরম হাওয়া ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় ধাক্কা থেকেও পকেট রক্ষা পাবে।
